সংবাদ শিরোনাম:
» « ফিরোজা’য় খালেদা জিয়াসহ ৯ জন করোনা আক্রান্ত» « অভ্যন্তরীণ সব রুটের ফ্লাইট ২০ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ» « সপ্তাহে তিনদিন বসবেন আপিল বিভাগ, তবে সীমিত পরিসরে» « কঠোর লকডাউনেও খোলা থাকবে শিল্প কারখানা» « প্রজ্ঞাপন জারি আজ ॥ যেমন হবে ১৪ এপ্রিল থেকে ৭ দিনের লকডাউন» « চুনারুঘাটে বন্য শুকরের আক্রমনে চা শ্রমিকের মৃত্যু» « শায়েস্তাগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাইভেটকার চালকসহ আহত ২» « মাধবপুরে কুকুরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক» « শায়েস্তাগঞ্জ নির্মাণাধীন থানায় টাইলস বসাতে মাটির ব্যবহার ॥ তদন্ত দলের ভবন পরিদর্শন» « দুই উপজেলায় ভর্তুকিতে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করেছেন এমপি আবু জাহির

বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী জাকারিয়া চৌধুরীর প্রয়াণ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের প্রবাসী সংগঠক, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক উপদেষ্টা কবি জাকারিয়া চৌধুরী। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী জাকারিয়া চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর গ্রীন লাইফ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্নালিল্লাৃ রাজিউন)। বিষয়টি নিশ্চিত করে তার ভাতিজা সাংবাদিক পাবেল খান চৌধুরী জানান, ঢাকার আনুষ্ঠানিকতা শেষ মরদেহ হবিগঞ্জ নিয়ে আসা হবে। জানাযার নামাজের সময় পরে জানানো হবে। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী জাকারিয়া চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের সৎমুখা চৌধুরী বাড়ি। তার বাবা ইয়াইয়া খান চৌধুরী ১৯৫৭ সালে কুষ্টিয়া ও ঢাকার প্রথম বাঙ্গালি ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও এমএনএ (মেম্বার অব ন্যাশনাল অ্যাসেমব্লি) ছিলেন। বাবার চাকরির সুবাদে ১৯৩৩ সালের ১৮ নভেম্বর জাকারিয়া চৌধুরী ভারতের আসাম প্রদেশের শিবসাগরে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষা জীবন শুরু মেঘালয়ের রাজধানী শিলং ও করিমগঞ্জে, তারপর সিলেটে। করিমগঞ্জের স্কুলে অধ্যায়নকালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ১৯৫৫ সালে অর্থনীতিতে সম্মান ডিগ্রী অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মিছিল করতে গিয়ে কারারুদ্ধ হোন তিনি। এরপর ১৯৫৭ সালে লন্ডনে লিঙ্কনস্ ইন এ ‘বার-এট-ল’ পড়ার জন্য ভর্তি হন। ছাত্রাবস্থায় লন্ডনে ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে সংগ্রামের মাধ্যমে পূর্ব বাংলা স্বাধীন করার পরিকল্পনায় ‘পূর্বসূরী’ নামে গোপন রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৩ সনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন লন্ডনে এক সংক্ষিপ্ত সফরে গেলে জাকারিয়া চৌধুরী তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য স্বাধীনতার কথাটা বঙ্গবন্ধুর কাছে উত্থাপন করেন। বঙ্গবন্ধু তার সঙ্গে এক মত পোষণ করেন। সেই অবধি বঙ্গবন্ধুর সাথে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। ১৯৬৮ সালে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার’ প্রতিবাদে লন্ডনস্থ পাকিস্তান হাই কমিশন জবরদখলের নেতৃত্ব দেন ও প্রখ্যাত আইনজীবি ইধৎৎরংঃবৎ ঝরৎ ঞযড়সধং ডরষষরধসং-ছ. ঈ. কে মামলা পরিচালনার জন্য পূর্ব পাকিস্তানে প্রেরণ করেন। আইয়ুব শাহী পতনের পর ১৯৭০ সালে দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পুনরায় লন্ডন যান এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে অসহযোগ আন্দোলনের শুরুতে বঙ্গবন্ধু ওনাকে ব্যক্তিগত দূত হিসাবে লন্ডনে অবস্থান নিতে বলেন। তখন এয়ারপোর্টের কর্তৃত্ব পাকিস্তান বিমান বাহিনী নিয়ে নেয় এবং আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নিরাপত্তা আরোপ করে। যেহেতু তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতিক হিসাবে পাকিস্তান সরকারের কাছে চিহ্নিত ছিলেন সেহেতু এয়ারপোর্ট দিয়ে লন্ডন যাওয়া সমীচীন মনে করেননি। তবে ২৫শে মার্চের পৈচাশিক ঘটনার পর তিনি আত্মগোপনে থেকে ৩রা এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করতে ঢাকা ছেড়ে হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া চা-বাগানে যান। অনেক বিদ্রোহী বাঙ্গালী সেনারা তখন মেজর খালেদ মোশাররফের (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল) নেতৃত্বে ঐ চা-বাগানে অবস্থানরত ছিল। বিদ্রোহী বাঙ্গালী সেনা কর্মকর্তারা বৈঠক করে ওনাকে লন্ডনে চলে গিয়ে ‘অর্থ’ ও ‘অস্ত্র’ সংগ্রহের দায়িত্ব অর্পন করেন। পরে নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে লন্ডনে গিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত দূত পরিচয়েই সাংগঠনিক কার্য্যক্রম শুরু করেন। মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার জন্য তখন বিলেতে মরহুম আজিজুল হক ভূঁইয়াকে আহবায়ক ও মরহুম বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে উপদেষ্টা করে যে সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয় তিনি সেই সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে কার্য্যক্রম শুরু করেন এবং ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ নামে অর্থ সংগ্রহের জন্য হেমব্রোজ ব্যাংকে একাউন্ট খোলেন। পরবর্তীতে সেই একাউন্ট ন্যাশনাল ওয়েস্ট মিনিস্টার ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৭১ সনের ২৫ শে মার্চে সেই নৃশংস পাকিস্তানী সামরিক হামলার প্রতিবাদে লন্ডনসহ বিলেতের বিভিন্ন শহরে প্রবাসী দেশবাসী কর্তৃক প্রতিবাদের ঝড় উঠে, গঠিত হয় একশন কমিটি। লক্ষ লক্ষ পাউন্ডের চাঁদা জমা হতে থাকে এই ফান্ডে। সংগৃহীত এই ফান্ডের টাকায় পৃথিবীব্যাপী প্রচার কার্য্য চালানো হয়, যুদ্ধের জন্য কেনা হয় রসদ ও সাজ-সরঞ্জাম এবং পরবর্তীতে যুদ্ধের পর উদ্বৃত্ত টাকা দান করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারকে। সব একশন কমিটিকে সমম্বয় ও কূটনৈতিক লবিংয়ের জন্য ‘বাংলাদেশ মিশন’ নাম দিয়ে ২৪ পেমব্রিজ গার্ডেন, লন্ডন ডব্লিউ-২ তে অফিস স্থাপন করা হয়। মিশনের প্রধান হিসাবে মরহুম বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী দায়িত্বরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালের ৯ মাস লন্ডন ছিল প্রতিবাদ ও প্রচারে মুখরিত। বিলেতের দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠীর তৎপরতা ও ত্যাগের কারনেই আর্ন্তজাতিক প্রচার মাধ্যম আমাদের প্রতি বরাবর সহানুভূতিশীল ও সোচ্চার ছিল যা যুদ্ধ জয়ের জন্য অপরিহার্য্য। ১৯৭২ সালে তিনি ফের দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের উপদেষ্টা পদে যোগ দেন। তিনি শ্রম মন্ত্রণালয়, জনশক্তি মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। জাকারিয়া চৌধুরীর নিজ দেশের বাড়ী হাওর এলাকায় হওয়ায় সেই সকল এলাকার আর্থ-সামাজিক সমস্যার সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি খুব সচেতন ছিলেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলের এক পর্যায়ে তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হাওর উন্নয়ন বোর্ড গঠন করে সেখানকার সম্পদ এবং সম্ভাবনাকে সু-সংগঠিত করে এলাকার উন্নয়ন সু-সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৭৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী এক অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান হাওড় উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে যাহার নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ড। জাকারিয়া খান চৌধুরী ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির জাকারিয়া খান চৌধুরী ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে হবিগঞ্জ-২ আসন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়াও ১৯৯১ ও ১২ জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী জাকারিয়া চৌধুরীর প্রয়াণ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের প্রবাসী সংগঠক, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক উপদেষ্টা কবি জাকারিয়া চৌধুরী। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী জাকারিয়া চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর গ্রীন লাইফ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্নালিল্লাৃ রাজিউন)। বিষয়টি নিশ্চিত করে তার ভাতিজা সাংবাদিক পাবেল খান চৌধুরী জানান, ঢাকার আনুষ্ঠানিকতা শেষ মরদেহ হবিগঞ্জ নিয়ে আসা হবে। জানাযার নামাজের সময় পরে জানানো হবে। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী জাকারিয়া চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের সৎমুখা চৌধুরী বাড়ি। তার বাবা ইয়াইয়া খান চৌধুরী ১৯৫৭ সালে কুষ্টিয়া ও ঢাকার প্রথম বাঙ্গালি ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও এমএনএ (মেম্বার অব ন্যাশনাল অ্যাসেমব্লি) ছিলেন। বাবার চাকরির সুবাদে ১৯৩৩ সালের ১৮ নভেম্বর জাকারিয়া চৌধুরী ভারতের আসাম প্রদেশের শিবসাগরে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষা জীবন শুরু মেঘালয়ের রাজধানী শিলং ও করিমগঞ্জে, তারপর সিলেটে। করিমগঞ্জের স্কুলে অধ্যায়নকালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ১৯৫৫ সালে অর্থনীতিতে সম্মান ডিগ্রী অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মিছিল করতে গিয়ে কারারুদ্ধ হোন তিনি। এরপর ১৯৫৭ সালে লন্ডনে লিঙ্কনস্ ইন এ ‘বার-এট-ল’ পড়ার জন্য ভর্তি হন। ছাত্রাবস্থায় লন্ডনে ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে সংগ্রামের মাধ্যমে পূর্ব বাংলা স্বাধীন করার পরিকল্পনায় ‘পূর্বসূরী’ নামে গোপন রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৩ সনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন লন্ডনে এক সংক্ষিপ্ত সফরে গেলে জাকারিয়া চৌধুরী তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য স্বাধীনতার কথাটা বঙ্গবন্ধুর কাছে উত্থাপন করেন। বঙ্গবন্ধু তার সঙ্গে এক মত পোষণ করেন। সেই অবধি বঙ্গবন্ধুর সাথে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। ১৯৬৮ সালে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার’ প্রতিবাদে লন্ডনস্থ পাকিস্তান হাই কমিশন জবরদখলের নেতৃত্ব দেন ও প্রখ্যাত আইনজীবি ইধৎৎরংঃবৎ ঝরৎ ঞযড়সধং ডরষষরধসং-ছ. ঈ. কে মামলা পরিচালনার জন্য পূর্ব পাকিস্তানে প্রেরণ করেন। আইয়ুব শাহী পতনের পর ১৯৭০ সালে দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পুনরায় লন্ডন যান এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে অসহযোগ আন্দোলনের শুরুতে বঙ্গবন্ধু ওনাকে ব্যক্তিগত দূত হিসাবে লন্ডনে অবস্থান নিতে বলেন। তখন এয়ারপোর্টের কর্তৃত্ব পাকিস্তান বিমান বাহিনী নিয়ে নেয় এবং আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নিরাপত্তা আরোপ করে। যেহেতু তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতিক হিসাবে পাকিস্তান সরকারের কাছে চিহ্নিত ছিলেন সেহেতু এয়ারপোর্ট দিয়ে লন্ডন যাওয়া সমীচীন মনে করেননি। তবে ২৫শে মার্চের পৈচাশিক ঘটনার পর তিনি আত্মগোপনে থেকে ৩রা এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করতে ঢাকা ছেড়ে হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া চা-বাগানে যান। অনেক বিদ্রোহী বাঙ্গালী সেনারা তখন মেজর খালেদ মোশাররফের (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল) নেতৃত্বে ঐ চা-বাগানে অবস্থানরত ছিল। বিদ্রোহী বাঙ্গালী সেনা কর্মকর্তারা বৈঠক করে ওনাকে লন্ডনে চলে গিয়ে ‘অর্থ’ ও ‘অস্ত্র’ সংগ্রহের দায়িত্ব অর্পন করেন। পরে নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে লন্ডনে গিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত দূত পরিচয়েই সাংগঠনিক কার্য্যক্রম শুরু করেন। মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার জন্য তখন বিলেতে মরহুম আজিজুল হক ভূঁইয়াকে আহবায়ক ও মরহুম বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে উপদেষ্টা করে যে সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয় তিনি সেই সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে কার্য্যক্রম শুরু করেন এবং ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ নামে অর্থ সংগ্রহের জন্য হেমব্রোজ ব্যাংকে একাউন্ট খোলেন। পরবর্তীতে সেই একাউন্ট ন্যাশনাল ওয়েস্ট মিনিস্টার ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৭১ সনের ২৫ শে মার্চে সেই নৃশংস পাকিস্তানী সামরিক হামলার প্রতিবাদে লন্ডনসহ বিলেতের বিভিন্ন শহরে প্রবাসী দেশবাসী কর্তৃক প্রতিবাদের ঝড় উঠে, গঠিত হয় একশন কমিটি। লক্ষ লক্ষ পাউন্ডের চাঁদা জমা হতে থাকে এই ফান্ডে। সংগৃহীত এই ফান্ডের টাকায় পৃথিবীব্যাপী প্রচার কার্য্য চালানো হয়, যুদ্ধের জন্য কেনা হয় রসদ ও সাজ-সরঞ্জাম এবং পরবর্তীতে যুদ্ধের পর উদ্বৃত্ত টাকা দান করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারকে। সব একশন কমিটিকে সমম্বয় ও কূটনৈতিক লবিংয়ের জন্য ‘বাংলাদেশ মিশন’ নাম দিয়ে ২৪ পেমব্রিজ গার্ডেন, লন্ডন ডব্লিউ-২ তে অফিস স্থাপন করা হয়। মিশনের প্রধান হিসাবে মরহুম বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী দায়িত্বরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালের ৯ মাস লন্ডন ছিল প্রতিবাদ ও প্রচারে মুখরিত। বিলেতের দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠীর তৎপরতা ও ত্যাগের কারনেই আর্ন্তজাতিক প্রচার মাধ্যম আমাদের প্রতি বরাবর সহানুভূতিশীল ও সোচ্চার ছিল যা যুদ্ধ জয়ের জন্য অপরিহার্য্য। ১৯৭২ সালে তিনি ফের দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের উপদেষ্টা পদে যোগ দেন। তিনি শ্রম মন্ত্রণালয়, জনশক্তি মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। জাকারিয়া চৌধুরীর নিজ দেশের বাড়ী হাওর এলাকায় হওয়ায় সেই সকল এলাকার আর্থ-সামাজিক সমস্যার সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি খুব সচেতন ছিলেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলের এক পর্যায়ে তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হাওর উন্নয়ন বোর্ড গঠন করে সেখানকার সম্পদ এবং সম্ভাবনাকে সু-সংগঠিত করে এলাকার উন্নয়ন সু-সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৭৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী এক অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান হাওড় উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে যাহার নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ড। জাকারিয়া খান চৌধুরী ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির জাকারিয়া খান চৌধুরী ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে হবিগঞ্জ-২ আসন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়াও ১৯৯১ ও ১২ জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।

নিউজটি 21 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

ফিরোজা’য় খালেদা জিয়াসহ ৯ জন করোনা আক্রান্ত

অভ্যন্তরীণ সব রুটের ফ্লাইট ২০ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ

সপ্তাহে তিনদিন বসবেন আপিল বিভাগ, তবে সীমিত পরিসরে

কঠোর লকডাউনেও খোলা থাকবে শিল্প কারখানা

প্রজ্ঞাপন জারি আজ ॥ যেমন হবে ১৪ এপ্রিল থেকে ৭ দিনের লকডাউন

চুনারুঘাটে বন্য শুকরের আক্রমনে চা শ্রমিকের মৃত্যু

শায়েস্তাগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাইভেটকার চালকসহ আহত ২

মাধবপুরে কুকুরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

শায়েস্তাগঞ্জ নির্মাণাধীন থানায় টাইলস বসাতে মাটির ব্যবহার ॥ তদন্ত দলের ভবন পরিদর্শন

দুই উপজেলায় ভর্তুকিতে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করেছেন এমপি আবু জাহির

লাখাইয়ে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তি নিহত ॥ পুলিশ বাদি হয়ে মামলা

লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের সাড়াশি অভিযান ॥ বিভিন্ন অপরাধে ১৪টি মামলা এবং ৯ হাজার ৬শ’ টাকা জরিমানা

সাংবাদিক নোমান চৌধুরীর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রভাকরের মিলাদ ও দোয়া

করোনা মহামারীর কারণে আবারও বন্ধ হবিগঞ্জ আদালত তবে সীমিত আকারে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাত্র একজন বিচারক স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোর্ট পরিচালনা করবেন

শায়েস্তাগঞ্জে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মহাসড়কে গণপরিবহন

লাখাইয়ে মাস্কবিহীন চলাফেরা ও নির্দেশনা অমান্য করায় ৭ জনের অর্থদন্ড

সারাদেশের মতো নবীগঞ্জে ও ঢিলেঢালা লকডাউন

মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজন করা যাবে না মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ে ১০ দফা নির্দেশনা

মাধবপুরে ৫০ বোতল ফেন্সিডিলসহ এক মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার

হবিগঞ্জে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ২১ লাখ টাকা নিয়ে নিখোঁজ বিজিবি সদস্য

সম্পাদক ও প্রকাশক ॥ মোঃ ইসমাইল হোসেন
প্রাইম অফসেট প্রিন্টিং প্রেস পৌর মার্কেট হবিগঞ্জ থেকে মুদ্রিত ও গার্নিং পার্ক হবিগঞ্জ হতে প্রকাশিত।।
মোবাইল ॥ ০১৭১৫-০০২৮৮৬
ইমেইল- swadeshbarta.hob@gmail.com
website : www.swadeshbarta.com