সংবাদ শিরোনাম:

সিলেটের শুঁটকি শুধু দেশেই নয়, চলে যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বজুড়ে

স্বদেশ বার্তা ডেস্ক ॥ সিলেটে শুঁটকির পরিচিতি এখন বিশ্বময়। এখানে উৎপাদিত শুঁটকি রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এখানে শুঁটকি উৎপাদনের বদৌলতে কর্মসংস্থান হয়েছে নারী-পুরুষের। শুটকি মাছ সংরক্ষণ এবং রান্না দুই সুবিধা থাকায় তাজা মাছের তুলনায় বর্তমানে শুঁটকির বিক্রি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এছাড়া শুঁটকিতে উচ্চমাত্রার আমিষ বা প্রোটিন, ভিটামিন ‘ডি’ ও কোলেস্টেরল রয়েছে। শুঁটকি কম-বেশি সবারই প্রিয়। বিশেষ করে সিলেট এলাকার প্রবাসীদের কাছে শুঁটকি অত্যন্ত প্রিয় খাবার। ফলে দিন দিন সিলেটে বাড়ছে শুঁটকির কদর। বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের মাহতাবপুরের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে শুঁটকি সরবরাহ করছেন। অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন পর্যন্ত এই চার মাস শুঁটকি তৈরির ভরা মৌসুম। এই সময় বাজারে মাছের মূল্য কম থাকায় বেশি পরিমাণে শুঁটকি তৈরি সম্ভব হয়। শুধু তাই নয়, বিশ্বনাথ উপজেলায় বানানো মিঠা পানির মাছের এই শুঁটকি দেশের বাজারেই নয় চলে যাচ্ছে ব্রিটেন, আমেরিকা ও সৌদি আরব, ভারতসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশে। এতে মাহতাবপুরের শুঁটকির বাজারও একটি শিল্প হয়ে উঠেছে। সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের বিশ্বনাথ, ও জালালাবাদ এলাকার মধ্যবর্তী মাহতাবপুরের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে শুঁটকির প্রায় চল্লিশটি ডাঙ্গি রয়েছে। এরা খাঁচার ওপর মিঠা পানির মাছ শুকিয়ে এখন শুঁটকি তৈরি করছে। আর শুঁটকি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে দুই থেকে তিনশত নারী-পুরুষ। মাহতাবপুরের প্রায় তিন শতাধিক নারী ও পুরুষ শ্রমিক শুঁটকির জন্য মাছ কাটার কাজ করেন। বিনিময়ে প্রতিদিন মজুরি পান ১৩০-১৫০টাকা। এসব কাটা মাছে লবণ ছিটিয়ে ৩-৪ ঘণ্টা রেখে রোদে শুকানোর জন্য প্রথমে চাঁচ বিছিয়ে মাটিতে এবং কিছু শুকানোর পর মাচায় দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ থেকে ছয়দিন শুকানোর পর প্রক্রিয়াজাত করে শুঁটকি তৈরি করা হয়। এখানে পুঁটি, টেংরা, বাইম, চিংড়ি, চান্দা ও কাইখ্যা এইসব প্রজাতির মাছের শুঁটকি তৈরি করা হয়। তাদের এ শুঁটকিগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া বা ঢাকার কিছু লোক পাইকারি ধরে ক্রয় করে নেন। এরা আবার এগুলো ভারতে বিক্রি করেন। তাদের শুঁটকিগুলো সব জায়গায় বেশ জনপ্রিয়। তাই তারা এ মৌসুমে দুই থেকে তিন কোটি টাকার শুঁটকি পাইকারি দরে বিক্রি করে থাকেন বলে জানান উৎপাদনকারীরা। মাহতাবপুরের একটি বড় শুঁটকির আড়তের মালিক মান্নান জানান, তারা প্রতি বছর ছয় মাস শুঁটকি বিক্রি করতে পারেন। তাদের শুঁটকিগুলো পাইকারদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। শুঁটকির আড়তের নারী শ্রমিক জুলেখা বেগম বলেন, সারা দিন কাজ করে মাত্র ১৫০ টাকা মজুরিতে আমাদের সংসার চলে না। আমার গরিব মানুষ। নদীতে আমাদের ঘর-বাড়ি ভেঙে গেছে। অভাবের সংসার চালানোর জন্য অল্প টাকায় এ কাজ করি। এ ব্যবসার ভবিষ্যৎ আছে দাবি করে ডাঙ্গারীর মালিক মাহতাবপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন, ধলিপাড়া গ্রামের আলতাব মিয়া ও দিঘলী রামপুরের কালা মিয়া বলেন, এই মৌসুমে তারা শুঁটকির উৎপাদন করে থাকেন। এটা অল্পদিনের লাভজনক ব্যবসা। সিলেটের সবচেয়ে বড় পাইকারি আড়ত ছড়ারপাড়ে (মাছিমপুর) এসব শুঁটকি বিক্রি করা হয়। সেখান থেকে শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে সারা দেশে ও বিদেশে পৌঁছে যায়।

নিউজটি 63 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

আজমিরীগঞ্জে পৃথক ঘটনায় প্রাণ গেল দুই তরুণের

হবিগঞ্জে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে এমপি আবু জাহির

হবিগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির অফিসের শুভ উদ্বোধন

শাহেদ খ্যাত প্রতারক আফজাল এর বিরুদ্ধে আরেক মামলা

১৬ আগস্ট থেকে চলবে ১৩ আন্তঃনগর ট্রেন

শায়েস্তাগঞ্জে নড়বড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ॥ আতংকে পৌরবাসী

২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা কাড়ল ৩৪ প্রাণ

নবীগঞ্জে বিদ্যালয়ের নাম ঋণকারীপাড়া ও গনজা ॥ বিব্রত স্থানীয়রা

নবীগঞ্জে চলছে চোলাই মদের জমজমাট ব্যবসা

সাবমেরিন ক্যাবলস বিচ্ছিন্ন, বাংলাদেশে ইন্টারনেটে ধীরগতি

বানিয়াচংয়ে মৎস্য কর্মকর্তার মো. আলমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমল

৬নং দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে সংবর্ধনা দিলো ইউপি সদস্যরা

২৩ আগস্টের মধ্যে দেশের সকল বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তথ্য দেওয়ার নির্দেশ

বঙ্গমাতা ছিলেন বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের অন্যতম অগ্রদূত-এমপি আবু জাহির

দেশে করোনায় আরও ৩২ মুত্যু শনাক্ত ২৬১১

হবিগঞ্জে টমটমসহ গণপরিবহণে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

সাংবাদিকতা বর্তমানে নানামুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন

বঙ্গমাতার জন্ম দিবসে হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

বাহুবলে গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

সম্পাদক ও প্রকাশক ॥ মোঃ ইসমাইল হোসেন
প্রাইম অফসেট প্রিন্টিং প্রেস পৌর মার্কেট হবিগঞ্জ থেকে মুদ্রিত ও গার্নিং পার্ক হবিগঞ্জ হতে প্রকাশিত।।
মোবাইল ॥ ০১৭১৫-০০২৮৮৬
ইমেইল- swadeshbarta.hob@gmail.com
website : www.swadeshbarta.com