সংবাদ শিরোনাম:
» « মুজিববর্ষে চুনারুঘাটের ২০০ ভূমিহীন পরিবার মাথা গোজার ঠাইঁ পাচ্ছে» « সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হবে-প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী» « হবিগঞ্জে মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত» « কোন ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে সব টাকা ফেরত পাবেন আমানতকারী» « শহরে ড্যান্ডি নেশার কবলে কোমলমতি শিশুরা» « পাইকারি-খুচরায় বাড়লো বিদ্যুতের দাম» « বাহুবলে অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের দায়ে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা» « বানিয়াচঙ্গে বর পক্ষের উপর কনে পক্ষের হামলা, আহত ১০» « যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিমিয়» « লাখাইয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন করছেন এমপি আবু জাহির

গ্রেগরিয়ানের সাথে সমন্বয় করতে বাংলা ক্যালেন্ডার পরিবর্তন

স্বদেশ বার্তা ডেস্ক ॥ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সঙ্গে জড়িত ঐতিহাসিক দিবসগুলোকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সাথে সমন্বয় করার জন্য বাংলা ক্যালেন্ডার পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন কেবল বাংলাদেশের জন্যই করা হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যেখানে বাংলা একটি অন্যতম সরকারি ভাষা সেখানে এই পরিবর্তন করা হয়নি। এখন থেকে পয়লা বৈশাখসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো নির্দিষ্ট দিনে পালন হবে। তবে পয়লা বসন্তের মতো দিনটি যেখানে প্রতিবছর তেরোই ফেব্রুয়ারিতে পালন করা হতো ২০২০ সাল থেকে বাংলা ফাল্গুন মাসের প্রথম সেই দিনটি চলে যাচ্ছে ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে। কী পরিবর্তন?  বাংলাদেশে নতুন বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী এখন থেকে বাংলা বছরের প্রথম ছয় মাস ৩১ দিনে হবে। এর আগে বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র বছরের প্রথম এই পাঁচ মাস ৩১ দিন গণনা করা হত। এখন ফাল্গুন মাস ছাড়া অন্য পাঁচ মাস ৩০ দিনে পালন করা হবে। ফাল্গুন মাস হবে ২৯ দিনের, কেবল লিপইয়ারের বছর ফাল্গুন ৩০ দিনের মাস হবে। বাংলা বর্ষপঞ্জি পরিবর্তনের কাজটি করেছে বাংলা একাডেমির গবেষণা, সংকলন এবং অভিধান ও বিশ্বকোষ বিভাগ। বাংলা বর্ষপঞ্জি পরিবর্তনের কাজটি করে বাংলা একাডেমি এ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলছিলেন, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ১৬ই ডিসেম্বর, ২৬শে মার্চের মত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবস সমূহ বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী যে দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই দিনে পালন করা হবে। যেমন ২১শে ফেব্রুয়ারি, যা এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যা বিশ্বব্যাপী পালিত হয়, ১৯৫২ সালে ভাষার দাবিতে নামা মিছিলে গুলি চালানোর সেই ঘটনা ঘটেছিল বাংলা আটই ফাল্গুনে। কিন্তু বছর ঘুরে অধিকাংশ সময়ই এখন ২১শে ফেব্রুয়ারি গিয়ে পড়ে নয়ই ফাল্গুনে, যা নিয়ে বিভিন্ন সময় লেখক, কবি, সাহিত্যিকসহ অনেকে আপত্তি জানিয়েছিলেন। মিঃ হোসেন বলছিলেন, একইভাবে বাংলাদেশের বিজয় দিবস ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালের ঐ দিনটি ছিল পয়লা পৌষ, কিন্তু বাংলা পঞ্জিকায় দিনটি পড়ত দোসরা পৌষ। “আবার রবীন্দ্রজয়ন্তী ও নজরুলজয়ন্তী এবং তাঁদের মৃত্যুদিনও বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী যে দিনে হয়েছিল, তার সঙ্গে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির দিন মেলে না। কিন্তু নতুন নিয়মে দুই বর্ষপঞ্জির মধ্যে দিন গণনার সমন্বয় করা হয়েছে।”
কবে থেকে পরিবর্তন?
বাংলা একাডেমীর গবেষণা, সংকলন এবং অভিধান ও বিশ্বকোষ বিভাগের পরিচালক মিঃ হোসেন বলছিলেন, এই পরিবর্তন মূলত চলতি ১৪২৬ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন থেকে চালু হয়েছে। মুঘল সম্রাট জালালউদ্দিন মোহাম্মদ আকবর ‘বাংলা সন’ প্রবর্তন করেন। কিন্তু আগের নিয়ম অনুযায়ী যেহেতু প্রথম পাঁচ মাস ৩১ দিনেই হয়ে থাকে, সে কারণে আশ্বিন মাস পর্যন্ত পরিবর্তন টের পাওয়া যায়নি। নতুন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মঙ্গলবার প্রথমবারের মত ৩১ দিনের আশ্বিন মাস পালন করা হয়েছে।
কবে সংস্কার শুরু?
বাংলাদেশে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মত বর্ষপঞ্জি সংস্কার করা হলো। নতুন করে পরিবর্তন আনার জন্য ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমি সংস্থাটির তৎকালীন মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে। সেই কমিটিতে ড. অজয় রায়, জামিলুর রেজা চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ সদস্য ছিলেন।
পয়লা বৈশাখ
বর্তমানে ঐ কমিটির সদস্য মিঃ খান বলছিলেন, বাংলা বর্ষপঞ্জি সংস্কারের কাজ প্রথম শুরু হয়েছিল ভারতে ১৯৫২ সালে। বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা, যিনি বাংলাদেশেরই সন্তান, তাকে প্রধান করে ভারতের সরকার একটি পঞ্জিকা সংস্কার কমিটি করেছিল। “তার আগে কেবল মাত্র চান্দ্র হিসাব ধরে বাংলা বর্ষপঞ্জি করা হত, যার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছিল না। মেঘনাদ সাহার ঐ কমিটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলোকে বাংলা বর্ষপঞ্জি সংস্কারের সুপারিশ করেন এবং তা গৃহীত হয়। পরে ১৯৫৬ সালে ড. মুহাম্মদ শহীদুুল্লাহ বর্ষপঞ্জি সংস্কারের কিছু সুপারিশ সরকারের কাছে করেন। নতুন বর্ষপঞ্জি তারই আলোকে করা হয়েছে।”
বাংলা বর্ষপঞ্জির শুরু
ইতিহাসবিদদের হিসাব অনুযায়ী ১৫৫৬ সাল থেকে বাংলা সন প্রবর্তন করা হয়। মুঘল সম্রাট জালালউদ্দিন মোহাম্মদ আকবর খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য তার সভার জ্যোতির্বিদ আমির ফতুুল্লা শিরাজীর সহযোগিতায় ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে ‘তারিখ-এ-এলাহি’ নামে নতুন একটি বছর গণনা পদ্ধতি চালু করেন। এটি কৃষকদের কাছে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত হয়, যা পরে ‘বাংলা সন’ বা ‘বঙ্গাব্দ’ নামে প্রচলিত হয়ে ওঠে। ঐ সময়ে প্রচলিত রাজকীয় সন ছিল ‘হিজরি সন’, যা চন্দ্রসন হওয়ার প্রতি বছর একই মাসে খাজনা আদায় সম্ভব হতো না। বাংলা সন শূণ্য থেকে শুরু হয়নি, যে বছর বাংলা সন প্রবর্তন করা হয়, সে বছর হিজরি সন ছিল ৯২৩ হিজরি। সে অনুযায়ী সম্রাটের নির্দেশে প্রবর্তনের বছরই ৯২৩ বছর বয়স নিয়ে যাত্রা শুরু হয় বাংলা সনের। বাংলা বর্ষের মাসগুলোর নামকরণ হয়েছে বিভিন্ন নক্ষত্রের নামে।

বর্ষপঞ্জি সংস্কার দেশে দেশে
বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জিও অনেক বার পরিবর্তন হয়েছে, অনেক বছর ধরে সংস্কার হয়েছে। ইটালিতে পোপের করা গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির সংস্কার ক্যাথলিক প্রটেস্টান্ট দ্বন্ধের কারণে ইংল্যান্ড গ্রহণ করেছিল ৭৫ বছর পর। এমনকি হিজরি সনেরও নানা সময়ে সংস্কার করা হয়েছে। (বিবিসি-বাংলা)

Share on Facebook
নিউজটি 13 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

মুজিববর্ষে চুনারুঘাটের ২০০ ভূমিহীন পরিবার মাথা গোজার ঠাইঁ পাচ্ছে

সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হবে-প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী

হবিগঞ্জে মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কোন ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে সব টাকা ফেরত পাবেন আমানতকারী

শহরে ড্যান্ডি নেশার কবলে কোমলমতি শিশুরা

পাইকারি-খুচরায় বাড়লো বিদ্যুতের দাম

বাহুবলে অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের দায়ে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা

বানিয়াচঙ্গে বর পক্ষের উপর কনে পক্ষের হামলা, আহত ১০

যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিমিয়

লাখাইয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন করছেন এমপি আবু জাহির

নবীগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের সাথে সহকারি শিক্ষকদের বিরোধ ॥ পাঠদানে ব্যাঘাত

মাধবপুরে ২১ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল সহ আটক ৩

নবীগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মাধবপুরে ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাক চালক আহত

মাধবপুরে পিকনিক করতে আসা ছাত্র-চা শ্রমিক সংঘর্ষ

আব্দুল আহাদ ফারুক এর স্মরণে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের শোকসভা

আজমিরীগঞ্জে কীটনাশক পানে যুবকের আত্মহত্যা

পাপিয়ার অবৈধ সম্পদের খোঁজ নিচ্ছে দুদক

নবীগঞ্জে শ্রমিকদের সাথে ভাড়া নিয়ে গ্রামবাসীর ব্যাপক সংঘর্ষ, অর্ধশতাধিক সিএনজি ভাংচুর ॥ আহত শতাধিক

একুশের চেতনা লালন করে আমাদেরকে অগ্রসর হতে হবে -এমপি আবু জাহির

সম্পাদক ও প্রকাশক ॥ মোঃ ইসমাইল হোসেন
প্রাইম অফসেট প্রিন্টিং প্রেস পৌর মার্কেট হবিগঞ্জ থেকে মুদ্রিত ও গার্নিং পার্ক হবিগঞ্জ হতে প্রকাশিত।।
মোবাইল ॥ ০১৭১৫-০০২৮৮৬
ইমেইল- swadeshbarta.hob@gmail.com
website : www.swadeshbarta.com