সংবাদ শিরোনাম:

চুনারুঘাটে চা বাগানের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ থাকলেও নেই বিদ্যুতের আলো

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একটা সময় ছিল যখন চা-বাগান শিশুদের শিক্ষার সুযোগ ছিল না। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অগ্রগতি হয়েছে। পূর্বে যে সময়টায় চা-বাগানের শ্রমিকরা লেখাপড়ার কথা চিন্তাই করতে পারত না, আজ তাদের শিশু সন্তানরাই লেখাপড়া শিখে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তাদের কেউ পুলিশ, কেউ ডাক্তার আবার কেউ বা নিজেদের সমাজ সেবায় নিয়োজিত করতে চায়। এমনই স্বপ্নের কথা জানিয়েছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের গাজীপুর এলাকায় অবস্থিত রেমা চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রত্যন্ত অঞ্চলে চা-বাগানের ভেতর ২০০০ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে সেখানে শিক্ষার সুযোগ থাকলেও বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে বিদ্যালয়টি ১৯ বছর আগে স্থাপিত হওয়ায় তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা ছিলো না। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার ভালো পরিবেশ রয়েছে। তবে বিদ্যুতের সুবিধা না থাকায় কিছুটা ভোগান্তিতে শিক্ষকদের ক্লাসসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। তাই শিগগিরই বিদ্যুৎ সুবিধার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই চা-বাগানের আঁকাবাঁকা পথ দিয়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে আসছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। তাদের চোখেমুখে বড় হওয়ার স্বপ্ন। প্রতিদিন তারা আঁকাবাঁকা পথ দিয়েই বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে। জরুরি কোনো প্রয়োজন বা অসুস্থতা ছাড়া স্কুল কামাই করা তাদের পছন্দ নয়। তবে একটা সময় ছিলো যখন চা-বাগানে শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবস্থা বদলেছে। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের পদচারণায় প্রতিদিন মুখরিত হয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। একাধিক চা-শ্রমিক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেমা চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যেভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিচ্ছে, তাতে সন্তুষ্ট তারা। এর ফলে তাদের সন্তানরা ধীরে ধীরে পড়াশোনার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে উঠছে। আর এতে করে তারা বড় হয়ে দেশের জন্য কিছু করবে এমন স্বপ্নও দেখছেন। শিক্ষক আব্দুর রশিদ জানান, বিদ্যালয়টি প্রত্যন্ত এলকায় হওয়ায় শিক্ষকরা এখানে আসতে চান না। কোন শিক্ষক এখানে আসলেও পরবর্তীতে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। তাই আমি জীবনের শেষ সময়ে এসেও চা-শ্রমিক সন্তানদের কিছু দিয়ে যেতে চাই। প্রধান শিক্ষিকা নাছিমা খাতুন জানান, এ বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষক যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান দিয়ে থাকেন। শিক্ষার্থীরাও আদর্শ মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করছেন। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ভাল রেজাল্টৎ করতে মাঝে মধ্যে বিশেষ ক্লাসেরও আয়োজন করা হয়। এছাড়া বিদ্যুতের প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার চালানোসহ কারিগরি শিক্ষা দেয়া যাচ্ছে না। গরমেও শিক্ষার্থীদের কষ্ট হয়। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সুনজর দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

নিউজটি 105 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

আজমিরীগঞ্জে পৃথক ঘটনায় প্রাণ গেল দুই তরুণের

হবিগঞ্জে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে এমপি আবু জাহির

হবিগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির অফিসের শুভ উদ্বোধন

শাহেদ খ্যাত প্রতারক আফজাল এর বিরুদ্ধে আরেক মামলা

১৬ আগস্ট থেকে চলবে ১৩ আন্তঃনগর ট্রেন

শায়েস্তাগঞ্জে নড়বড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ॥ আতংকে পৌরবাসী

২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা কাড়ল ৩৪ প্রাণ

নবীগঞ্জে বিদ্যালয়ের নাম ঋণকারীপাড়া ও গনজা ॥ বিব্রত স্থানীয়রা

নবীগঞ্জে চলছে চোলাই মদের জমজমাট ব্যবসা

সাবমেরিন ক্যাবলস বিচ্ছিন্ন, বাংলাদেশে ইন্টারনেটে ধীরগতি

বানিয়াচংয়ে মৎস্য কর্মকর্তার মো. আলমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমল

৬নং দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে সংবর্ধনা দিলো ইউপি সদস্যরা

২৩ আগস্টের মধ্যে দেশের সকল বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তথ্য দেওয়ার নির্দেশ

বঙ্গমাতা ছিলেন বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের অন্যতম অগ্রদূত-এমপি আবু জাহির

দেশে করোনায় আরও ৩২ মুত্যু শনাক্ত ২৬১১

হবিগঞ্জে টমটমসহ গণপরিবহণে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

সাংবাদিকতা বর্তমানে নানামুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন

বঙ্গমাতার জন্ম দিবসে হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

বাহুবলে গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

সম্পাদক ও প্রকাশক ॥ মোঃ ইসমাইল হোসেন
প্রাইম অফসেট প্রিন্টিং প্রেস পৌর মার্কেট হবিগঞ্জ থেকে মুদ্রিত ও গার্নিং পার্ক হবিগঞ্জ হতে প্রকাশিত।।
মোবাইল ॥ ০১৭১৫-০০২৮৮৬
ইমেইল- swadeshbarta.hob@gmail.com
website : www.swadeshbarta.com