সংবাদ শিরোনাম:
» « মুজিববর্ষে চুনারুঘাটের ২০০ ভূমিহীন পরিবার মাথা গোজার ঠাইঁ পাচ্ছে» « সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হবে-প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী» « হবিগঞ্জে মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত» « কোন ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে সব টাকা ফেরত পাবেন আমানতকারী» « শহরে ড্যান্ডি নেশার কবলে কোমলমতি শিশুরা» « পাইকারি-খুচরায় বাড়লো বিদ্যুতের দাম» « বাহুবলে অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের দায়ে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা» « বানিয়াচঙ্গে বর পক্ষের উপর কনে পক্ষের হামলা, আহত ১০» « যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিমিয়» « লাখাইয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন করছেন এমপি আবু জাহির

হবিগঞ্জে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান পুরাতন খোয়াই নদীর অবৈধ দখল মুক্ত না করলে ডিসিকে জবাবদিহী করতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার॥ হবিগঞ্জে পুরাতন খোয়াই নদীর চলমান উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান অবস্থা শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বাংলাদেশ নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেছেন, যে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান নদী দূষণ করে তাদেরকে ১/২ লাখ টাকা জরিমানা করে কিছুই হবে না। তাদেরকে গ্রেফতার করতে হবে। আইনে সেই সুযোগ দেয়া আছে। আর দেশে এক বছরের মধ্যে সকল নদীর অবৈধ দখলমুক্ত করতে না পারলে জেলা প্রশাসকদেরকে জবাবদিহীতা করতে হবে। উচ্ছেদে যারা বাধা দিবে সেই দখলকারীর অন্য ভূমিও অধিগ্রহণ করে ফেলতে হবে। আর জেলা প্রশাসকরা না পারলে আমরা এসে করে দিব। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে দেশের সকল জেলায় এক সপ্তাহের জন্য জেলা প্রশাসক বানিয়ে দেন তবে আমি প্রতিশ্রতি দিতে পারি এক সপ্তাহের মধ্যেই সকল নদী অবৈধ দখলমুক্ত করে দিব। আর দিতে না পারলে প্রধানমন্ত্রী এবং জনগনের কাছে মাফ চাইব। তিনি শুক্রবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাপা ও খোয়াই রিভার ওয়াটার কিপারের উদ্যোগে এই নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথাগুলো বলেন।
তিনি বলেন, নদী নিয়ে শতাধিক সংস্থা কাজ করছে। আম রা অচিরেই একটি হট লাইন চালু করব। প্রধানমন্ত্রীর উদারতার জন্যই নদী রক্ষা শাসন আইন হয়েছে। হাইকোর্ট থেকে বলা হয়েছে নদী দখলকারী যত ক্ষমতাবানই হোন না কেন তাকে উ”েছদ করতে হবে। আর নদী নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের নিরাপত্তা চাহিবামাত্র নিশ্চিত করতে হবে। আমরা রেফারেন্স রিপোর্ট অব রিভার তৈরি করেছি। ১শ বছর আগে নদী কেমন ছিল তা স্পার্সোর বিজ্ঞানীদের মাধ্যমে স্যাটেলাইন ইমেজের মাধ্যমে নির্ধারন করছি। পরিবেশ নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের কারনেই এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদারতায় আজ কমিশন হয়েছে। এই কমিশন আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। যদি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ কর্তৃপক্ষের কোন গাফিলতি পাওয়া যায় ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নদী নালার খনন ও উন্নয়নের যে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে তার অনুমোদন নিতে হয় নদী রক্ষা কমিশন থেকে। কিন্তু হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর ২ হাজার কোটি টাকার যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে তার কোন অনুমোদন নেয়া হয়নি। এমনকি কমিশনে কোন কপিও প্রদান করা হয়নি। আর রাতারাতি দুই দিনে ঘরে বসে কোন প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না। এরজন্য স্টাডি করতে হবে। একশ বছর পর কি চাহিদা হবে তাও মাথায় রাখতে হবে।  জনগনকে সম্পৃক্ত করতে হবে। একসপ্তাহের মধ্যে হবিগঞ্জের প্রকল্প নিয়ে তিনি সবার সাথে বসবেন বলে জানান। আর প্রকল্পের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার চেয়ে বেশী হয়ে যদি ৫হাজার কোটি টাকাও লাগে তাও বরাদ্ধ হবে বলে তিনি আশা¦স প্রদান করেন। এর জন্য সমন্বিত স্টাডির প্রয়োজন। শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না করে নদী খনন করলে এক বছরের মধ্যেই আবার তা ভরে যাবে।
নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যদি যথাযথ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে না পারি তাহলে বৈশি^ক উষ্ণায়নের কারনে আমরা একদিন ভেসে যাব। দেশে নদী দখলকারীর যে তালিকা করা হয়েছে তার দ্বিতীয় তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এই তালিকা বিল বোর্ডের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হবে। ১৮৮৫ সালে যে সিআরপিসি প্রণয়ন করা হয়েছিল সেখানে বলা হয়েছে কোন চ্যানেল বা নদীকে কোনভাবে বাধাগ্রস্থ করলে তাকে পুলিশ ধরে ফেলবে এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাকে শাস্তি দিবেন। কিন্তু অদ্যবদি এই আইনে কারও কোন সাজা হয়নি। তাহলে কেন এই আইন করা হল। আর মনে রাখতে হবে নদীর জায়গা কোনভাবেই বিক্রি এবং হস্তান্তর করা যাবে না। নদীর জায়গা আর খাস জায়গা এক নয়।
তিনি মাধবপুর উপজেলার সোনাই নদীতে নির্মিত সায়হাম ফিউচার পার্ক উচ্ছেদ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।  বার বার ফ্যাক্স করার পর কেনও উচ্ছেদ করা হল না তা তিনি জানতে চান। পরে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন এটি উচ্ছেদের জন্য। অন্যথায় নিজে এসে উচ্ছেদ করবেন বলে জানান। হবিগঞ্জের পুরাতন খোয়াই নদীতে মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন এর বিষয়ে তিনি বলেন, আমি নিজে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে শ্রদ্ধা করি। নিজে এবং পরিবারের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। কিন্তু কোথাও লেখা নেই মুক্তিযোদ্ধাদেরকে নদীর জমি দিতে হবে। কিন্তু কেন তাদেরকে এখানে জমি দেয়া হল। তিনি নদী ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ৪/৫জন মিলে না করে সবাইকে নিয়ে উন্মুক্তভাবে করার আহবান জানান।মনে রাখতে হবে আগামীদিনগুলো ক্রিমিনালদের জন্য শুভ নয়। বাপা হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক ইকরামুল ওয়াদুদ এর সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল এর সঞ্চালনায় সংলাপে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাপার আজীবন সদস্য ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জহিরুল হক শাকিল। ধারনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন তোফাজ্জল সোহেল। আলোচনায় অংশ নেন, নদী বিশেষজ্ঞ এ বি এম ছিদ্দিকুর রহমান, সাজিদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক অমিতাভ পরাগ তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈতক, নদী কমিশনের প্রোগ্রামার এ আর এম খালেকুজ্জামান, প্রেসক্লাব সভাপতি ইসমাইল হোসেন, সাবেক সভাপতি এডভোকেট মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল, শামীম আহসান, শোয়েব চৌধুরী, মটর মালিক গ্রুপের সভাপতি ফজলুর রহমান চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন, কবি তাহমিনা বেগম গিনি, এডভোকেট আলাউদ্দিন তালুকদার সাংবাদিক হাফিজুর রহমান নিয়ন ,এডভোকেট শাহ ফখরুজ্জামান, ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সামছুল হুদা, সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, হারুনুর রশীদ চৌধুরী, শাহ জালাল উদ্দিন জুয়েল।
মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনে ড. জহিরুল হক শাকিল বলেন, হবিগঞ্জ শহরের পুরাতন খোয়াই নদীতে যখন উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয় তখন সবাই আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু জেলা প্রশাসক পরিবর্তনের পর এর গতি থমকে আছে। বিশেষ করে সরকারী স্থাপনা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং এখনও সেখানে সরকারী স্থাপনা হচ্ছে। এই পুরাতন খোয়াই নদী হল বৃষ্টিপাত হলে প্রাথমিক রিজার্ভার। এটি দখল হওয়ায় এখন সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। এর আগে নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান পুরাতন খোয়াই নদীর করুণ অবস্থা স্বচক্ষে দেখেন এবং এই ভয়াবহ বিপর্যয় দেখে অবাক হন। শুক্রবার রাতে নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। পানি উন্নয়ন উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও নদী কমিশনের পানি বিশেষজ্ঞ সাজিদুর রহমান বলেন, পুরাতন খোয়াই নদীর ৫ কিলোমিটার নিয়ে যে প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে সেখানে এই নদীর পানির প্রবাহের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না রেখে আবদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে করে পানি নোংরা এবং দূষিত হবে। এই প্রকল্পে মাছুলিয়া অংশ এবং শেষ প্রান্তে মূল নদী থেকে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

Share on Facebook
নিউজটি 34 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

মুজিববর্ষে চুনারুঘাটের ২০০ ভূমিহীন পরিবার মাথা গোজার ঠাইঁ পাচ্ছে

সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হবে-প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী

হবিগঞ্জে মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কোন ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে সব টাকা ফেরত পাবেন আমানতকারী

শহরে ড্যান্ডি নেশার কবলে কোমলমতি শিশুরা

পাইকারি-খুচরায় বাড়লো বিদ্যুতের দাম

বাহুবলে অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের দায়ে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা

বানিয়াচঙ্গে বর পক্ষের উপর কনে পক্ষের হামলা, আহত ১০

যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিমিয়

লাখাইয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন করছেন এমপি আবু জাহির

নবীগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের সাথে সহকারি শিক্ষকদের বিরোধ ॥ পাঠদানে ব্যাঘাত

মাধবপুরে ২১ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল সহ আটক ৩

নবীগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মাধবপুরে ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাক চালক আহত

মাধবপুরে পিকনিক করতে আসা ছাত্র-চা শ্রমিক সংঘর্ষ

আব্দুল আহাদ ফারুক এর স্মরণে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের শোকসভা

আজমিরীগঞ্জে কীটনাশক পানে যুবকের আত্মহত্যা

পাপিয়ার অবৈধ সম্পদের খোঁজ নিচ্ছে দুদক

নবীগঞ্জে শ্রমিকদের সাথে ভাড়া নিয়ে গ্রামবাসীর ব্যাপক সংঘর্ষ, অর্ধশতাধিক সিএনজি ভাংচুর ॥ আহত শতাধিক

একুশের চেতনা লালন করে আমাদেরকে অগ্রসর হতে হবে -এমপি আবু জাহির

সম্পাদক ও প্রকাশক ॥ মোঃ ইসমাইল হোসেন
প্রাইম অফসেট প্রিন্টিং প্রেস পৌর মার্কেট হবিগঞ্জ থেকে মুদ্রিত ও গার্নিং পার্ক হবিগঞ্জ হতে প্রকাশিত।।
মোবাইল ॥ ০১৭১৫-০০২৮৮৬
ইমেইল- swadeshbarta.hob@gmail.com
website : www.swadeshbarta.com