সংবাদ শিরোনাম:
» « বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন এ দেশ সোনার বাংলা হবে ॥ বেসামরিক বিমানপরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী» « হবিগঞ্জে বঙ্গবন্ধু ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ উদ্বোধন করলেন এমপি আবু জাহির» « এসএসসি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন» « ধানকুড়া থেকে কবিরপুর গ্রাম পর্যন্ত রাস্তাটি এমপি মজিদ খানের নামে নাম করণের দাবি পুকড়া ইউনিয়নের ধানকুড়া, রূপাপৈল ও নিয়ামতপুর গ্রামে ৩৪৫ টি পরিবারকে নতুন বিদ্যুত সংযোগ প্রদান» « মাদকের আগ্রাসন থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে হবে -লাখাইয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা» « বাহুবলে বাস শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ» « হবিগঞ্জে এশিয়ান টিভির ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত» « ১০ দিন ধরে নিখোঁজ বাকৃবি শিক্ষার্থী নবীগঞ্জের আরিফ» « শায়েস্তাগঞ্জে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে এক ব্যক্তির সর্বস্ব খোয়া» « বাহুবলে বাস শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

কালেঙ্গা অ্যামবুশ আর বাহুবলকে হানাদারমুক্ত করার অন্যতম নায়ক গেরিলা যোদ্ধা মোহাম্মদ আলী টিপু

স্টাফ রিপোর্টার॥ ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় টগবগে এক তরুণ মোহাম্মদ আলী টিপু ছিলেন ছাত্র। পিতা এডভোকেট মোস্তফা আলী এমপি এবং মহুকুমা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসাবে হবিগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করতে বলিষ্ট নেতৃত্ব দেন। ছিলেন সর্ব দলীয় সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক। পিতার আদর্শ ও পদাংক অনুসরন করে মোহাম্মদ আলী টিপু সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনে ভূমিকা রাখাসহ মুক্তিযোদ্ধে নেমে যান অস্ত্র হাতে।
যুদ্ধ শুরু হলে তিনি ৩ নং সেক্টর এর  ২২ নং সাব সেক্টর ইকোর এই যোদ্ধা ছিলেন ক্যাপ্টেন এজাজ আহমেদ এর নেতৃত্বে। ২শ এর অধিক গেরিলা নিয়ে যে কোম্পানী গঠন করা হয় তিনি ছিলেন সেই কোম্পানীর কমান্ডার। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই মহুকুমা থেকে তিনি যুদ্ধে অংশ নিতেন। যুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতির কথা জানতে চাইলে মোহাম্মদ আলী টিপু বলেন, যুদ্ধের বর্ণনা আর গল্প করার জন্য আমরা যুদ্ধ করিনি। তারপর তিনি কয়েকটি অপারেশন এর কথা বলেন। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য হল চুনারুঘাট উপজেলার কালেঙ্গা অ্যাম্বুশের কথা। সেই অ্যামবুশ ক্যাপ্টেন আজিজ এর নেতৃত্বাধীন টিমসহ একাধিক টিম অংশগ্রহণ করলেও এই অ্যামবুশে আমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখি। ক্যাপ্টেন এজাজ এবং ক্যাপ্টেন আজিজ এখনও জীবিত আছেন। তারা সব জানেন। ১৯৭১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সেই অ্যামবুশে একজন অফিসার এবং ৬১জন পাকিস্তানী সেনাকে আমরা হত্যা করি। যদিও সামান্য ভূলের জন্য আব্দুল মান্নান নামে আমাদের এক সৈনিককে সেদিন প্রাণ দিতে হয়েছিল।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন ‘আমাকে আমার লিডার ক্যাপ্টেন এজাজ দায়িত্ব প্রদান করা করেছিলেন রশিদপুর চা বাগানের ফ্যাক্টরী ধ্বংস করার জন্য। দেয়া হয়েছিল ফায়ার গ্রেণেড। কিন্তু মন চায়নি। কারন আমার বাবা মরহুম মোস্তফা আলী ছিলেন এমএনও। তার কাছ থেকেসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বুঝতে পারছিলাম আমরা স্বাধীন হয়ে যাব। তখন চিন্তা করি আমাদের এত বড় সম্পদ নষ্ট করে কি লাভ। আমি সেটি উড়িয়ে না দেয়ায় ক্যাপ্টেন এজাজ আমাকে বলেন ‘এটি কি তোমার বাবার সম্পদ? তুমি কেন সেটি ধ্বংস করলা না’। আমি যদি সেদিন সেটি ধ্বংস করতাম তাহলে হয়তা বা কোন পদক পেতাম।
ফয়জাবাদ বধ্যভূমিতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ৯ এপ্রিল এর পর থেকে গণহত্যা চালায় বলে জানান তিনি।
মোহাম্মদ আলী টিপু তার বাহুবলের  আরেকটি অপারেশন এর কথা উল্লেখ করেন। সেটি হল রশিদপুর চা বাগানের চা শ্রমিক নেতা রাধা ভিম গোয়ালাকে হত্যার কথা। তিনি বলেন‘রাধা ভিম গোয়ালা মুক্তি বাহিনীর সাথে ভারতে গেলেও পরে সে চলে আসে এবং কাজ করে শান্তি কমিটির সাথে। সে তাদেরকে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করত। হবিগঞ্জের শান্তি কমিটির নেতা এডভোকেট আব্দুল্লার সোর্স ছিল সে। তাই তাকে আমি ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করি’।
রশিদপুর এলাকায় মোহাম্মদ আলী টিপু ছিলেন একজন ত্রাস। তাই ফয়জাবাদ পাহাড়ের আমতলি চা বাগানের একটি টিলার নাম করণ করা হয়েছিল টিপু টিলা। যা আজও তার নামে আছে। কিন্তু নতুন প্রজন্ম জানে না সেই ইতিহাস। বাহুবল মুক্ত করতে এবং সেদিক দিয়ে মাহবুবুর রব সাদীসহ বিভিন্ন গ্রুপের অভিযানের সুযোগ করে দিয়েছিলেন সেই টিপু।
মোহাম্মদ আলী টিপু সব সময় প্রচার বিমোখ এবং বড় নেতৃত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকলেও তার প্রতি আগ্রহী ছিলেন না। তার পিতা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক ছিলেন। এমপি ও পরে জেলার গভর্ণর ছিলেন। তিনি নিজে জেলা ছাত্রলীগকে প্রতিষ্ঠা করলেও নেননি বড় পদ। পরবর্তিতে সকল আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থাকলেও বড় পদের প্রতি তিনি কোন সময় লালায়িত ছিলেন না।
কালেরকণ্ঠের ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মোহাম্মদ আলী টিপুকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। একটি উত্তরীয়, ক্রেস্ট আর নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এই সম্মাননা পেয়ে তিনি আবেগে আপ্লুত। এই পুরস্কারকে তিনি উৎসর্গ করেছেন হবিগঞ্জের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধারকে। আর কালেরকণ্ঠ সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সম্মানিত করায় সেই পত্রিকাকেও ধন্যবাদ জানান।  সম্প্রতি তিনি স্ত্রীকে হারিয়েছেন। তবে তার দুই সন্তানই আজ প্রতিষ্ঠিত। একমাত্র মেয়ে নরসিংদীতে সহকারী কমিশনার ভূমি হিসাবে কর্মরত আর ছেলে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসাবে শ্রীমঙ্গলে বিটিআরআইতে কর্মরত। সন্তানের এই সফলতা তাকে আনন্দ দেয়।

Share on Facebook
নিউজটি 7 বার পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন এ দেশ সোনার বাংলা হবে ॥ বেসামরিক বিমানপরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী

হবিগঞ্জে বঙ্গবন্ধু ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ উদ্বোধন করলেন এমপি আবু জাহির

এসএসসি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন

ধানকুড়া থেকে কবিরপুর গ্রাম পর্যন্ত রাস্তাটি এমপি মজিদ খানের নামে নাম করণের দাবি পুকড়া ইউনিয়নের ধানকুড়া, রূপাপৈল ও নিয়ামতপুর গ্রামে ৩৪৫ টি পরিবারকে নতুন বিদ্যুত সংযোগ প্রদান

মাদকের আগ্রাসন থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে হবে -লাখাইয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা

বাহুবলে বাস শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

হবিগঞ্জে এশিয়ান টিভির ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

১০ দিন ধরে নিখোঁজ বাকৃবি শিক্ষার্থী নবীগঞ্জের আরিফ

শায়েস্তাগঞ্জে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে এক ব্যক্তির সর্বস্ব খোয়া

বাহুবলে বাস শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

লস্করপুরে শিক্ষকের বেত্রাঘাতে মাদ্রাসা ছাত্র গুরুতর আহত ॥ শিক্ষক আটক

খুলছে আমিরাতের শ্রমবাজার

হবিগঞ্জে যুবকের বিষপান

ফাইভ-জি’র চমক: রোবট খেলছে ফুটবল

রোববার আখেরি মোনাজাতে শেষে হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা

শায়েস্তাগঞ্জে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে এক ব্যক্তির সর্বস্ব খোয়া

হবিগঞ্জে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান পুরাতন খোয়াই নদীর অবৈধ দখল মুক্ত না করলে ডিসিকে জবাবদিহী করতে হবে

এক বছরে বিমানে লাভ ২৭৩ কোটি টাকা বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী

শায়েস্তাগঞ্জে ট্রেনের টিকেট কিনতে নানা বিড়ম্ভনা কালো বাজারীদের হাতে জিম্মি সাধারন যাত্রীরা

ভুয়া জেলার পরিচয় দিয়ে প্রতারক চক্রের টাকা দাবি

সম্পাদক ও প্রকাশক ॥ মোঃ ইসমাইল হোসেন
প্রাইম অফসেট প্রিন্টিং প্রেস পৌর মার্কেট হবিগঞ্জ থেকে মুদ্রিত ও গার্নিং পার্ক হবিগঞ্জ হতে প্রকাশিত।।
মোবাইল ॥ ০১৭১৫-০০২৮৮৬
ইমেইল- swadeshbarta.hob@gmail.com
website : www.swadeshbarta.com